উদ্দীপকটি থেকে জানা যায়, শিমুল সিলেটে থাকলেও প্রতি বছর রংপুরে তার দাদার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ বছর সেখানে যাওয়ার সময় সে লক্ষ করে রাস্তার ধারের যে জমিগুলোতে গত বছর তামাকের চাষ হয়েছিল, এ বছর সেখানে ধান ও ভুট্টার চাষ হয়েছে। শস্য চাষের পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে যথেষ্ট আনন্দিত করে তোলে। শিমুলের এ আনন্দ লাভের কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:প্রথমত, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকার দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে কৃষিজমির পরিমাণ কম হওয়ায় সরকারের এ উদ্যোগ খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। এ অবস্থায় কৃষিজমিগুলোতে তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টার চাষ করলে খাদ্যোৎপাদনের জন্য কৃষিজমির বাড়তি চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। তখন অধিক ধান ও ভুট্টা চাষ হলে খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সম্ভাবনায় শিক্ষিত ছেলে শিমুল আনন্দিত।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সম্পূরক খাদ্যের যোগান বৃদ্ধি আবশ্যক। ভুট্টা একটি সম্পূরক জাতীয় খাদ্য। তাই তামাক চাষের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ হলে তা দেশে সম্পূরক খাদ্যের যোগান বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে। এমনটি ভেবে শিমুল আনন্দিত।
তৃতীয়ত, আজকাল পৃথিবীব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, যাতে বাংলাদেশও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তামাক একটি মাদক জাতীয় পণ্য। তামাক পাতা দিয়ে তৈরি বিড়ি, সিগারেট, খৈনি, পানমশলা প্রভৃতি নিয়মিত সেবন করলে মানুষ প্রাণঘাতী ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। তাই তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টা চাষ শিমুলকে আনন্দিত করে। সুতরাং, উপরিউল্লিখিত বিভিন্ন কারণে শিমুল তামাক চাষের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টা চাষ করায় আনন্দ বোধ করে।