বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-
১. বিশ্বখাদ্য সম্মেলন ১৯৯৬ পরবর্তী সরকার এবং দাতাদেশ ও সংস্থা বাংলাদেশে খাদ্য নীতি প্রণয়নে উদ্যোগী হয়। সে লক্ষ্যে National Food Policy Plan of Action এবং Investment Plan for Food Security and Nutrition প্রণয়ন করা হয়। এতে সমন্বিতভাবে খাদ্য নিরাপত্তার সকল দিক; যেমন খাদ্যের প্রাপ্যতা, ক্রয়যোগ্যতা, উপযোগিতা বা ব্যবহার গুরুত্ব পায়।
২. সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে। এ লক্ষ্যে ইউরিয়া ব্যতীত সকল প্রকার সারের মূল্য অর্ধেকে কমিয়ে আনা, ভালো বীজ সহজলভ্য করা, ডিজেলের মূল্যে কৃষককে ভর্তুকি দেয়া, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ সহজ করাসহ কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়, এতে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে উৎসাহী হয়।
৩. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য চাহিদার একটি বিরাট অংশ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে, নীতিমালার মধ্য থেকে প্রতিবছর আমদানি করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৩১.৯৪ লক্ষ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে যে তথ্য ও উপাত্ত দেয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে বলা যায়, এখানে বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে খাদ্য উৎপাদনে লক্ষণীয় বৃদ্ধি এবং সরকারের খাদ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে এক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।