সাম্প্রতিককালে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সরকার টেকসই কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সরকারের এ পদক্ষেপ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য যথেষ্ট নয়; এ ব্যাপারে আরো কিছু করণীয় আছে। এগুলো নিম্নরূপ:বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার ও তীব্রতা উভয়ই বাড়তে পারে। এর ফলে খাদ্যোৎপাদনের পরিমাণ ও তার মজুদ অনেকটাই কমে যেতে পারে যা অবশ্যই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের পথে অন্যতম অন্তরায়। এ প্রেক্ষিতে বৃহত্তর স্বার্থে চাল ও গমের বাফার স্টকের পরিমাণ বাড়ানো উচিত যাতে তার দ্বারা উদ্ভূত খাদ্য সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।বাংলাদেশে যেহেতু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হঠাৎ করে খাদ্যোৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেই বিদ্যমান জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার কর্তৃক পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করতে পারলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসবে। তখন অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করেও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা যাবে। দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে হলে কৃষকদের খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদনের উদ্ভাবিত নবতর উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। একই সাথে উৎপাদিত খাদ্য দেশে-বিদেশে যাতে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে আইসিটি মারফত কৃষকরা তাদের কম্পিউটারের সাহায্যে ঘরে বসেই আবহাওয়া, কৃষি উৎপাদন ও চাষাবাদের নতুন নতুন কৌশল, উদ্ভিদের পরিপুষ্টিকর ও পানির ব্যবহার, কৃষিপণ্যের চাহিদা, বিদ্যমান দাম, পশু-পাখির রোগ ও তার প্রতিষেধক ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এভাবে সমগ্র কৃষি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে তা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে যথেষ্ট সহায়ক হবে।সুতরাং, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়াও সরকার উপরিউল্লিখিত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন নিশ্চিত করতে পারে।