উদ্দীপকটি থেকে জানা যায়, প্রায় এক মাস পরেও মমিনুল স্যারের কেনা কমলাটি আগের মতোই আছে; অর্থাৎ তা না পচে তাজা কমলার মতোই দেখাচ্ছে। এক মাস পরেও কমলাটি সতেজ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি ভেজাল খাদ্য সম্পর্কিত। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো- বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার খাদ্য-চাহিদার তুলনায় তার যোগান অপ্রতুল। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে খাদ্যের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে খাদ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরিবহণ ও সংরক্ষণজনিত সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে ভেজাল খাদ্য উপাদন, বিক্রয় ও পরিবেশন একটি লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। এখন তাই বিভিন্নভাবে ভেজাল খাদ্য তৈরি হচ্ছে। কমলালেবু, পেঁপে, আপেল, পাকা আম ইত্যাদি সতেজ রাখার জন্য ফরমালিন ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়, কলা দ্রুত পাকাতে ইথিন, মিষ্টিতে স্যাকারিন, শুঁটকি মাছে কীটনাশক ও ডিডিটি, দুধের সাথে পানিও পাউডার এবং জুস ও জেলির সাথে বিষাক্ত রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে দেখা যায়, শিশুখাদ্য থেকে শুরু করে ফলমূল, শাক-সব্জি, মাছ-মাংস, দুধ, মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাদ্য ও ইফতারি সামগ্রীসহ প্রায় সবধরনের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়।সুতরাং বলা যায়, খাদ্যে ভেজাল বা ভেজাল খাদ্যের হাত ধরে মমিনুল স্যারের ব্যাগের কমলাটি আগের মতোই থাকতে পেরেছে।