উদ্দীপকে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরো যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেগুলো নিম্নরূপ-
১. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন: ফসলোৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য আত্মপোষণমূলক চাষাবাদের পরিবর্তে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করা প্রয়োজন। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য খাদ্যের উৎপাদন শুরু করলে দেশে সার্বিকভাবে খাদ্যের যোগান বাড়বে।২. কৃষি-উৎপাদন কৌশলের পরিবর্তন: খাদ্যের যোগান বিপুলভাবে বৃদ্ধির জন্য কৃষি-উৎপাদন কৌশলের যুগোপযোগী পরিবর্তন আবশ্যক। এক্ষেত্রে শস্যের ক্রমাবর্তন, বহুমুখী শস্যোৎপাদন বিন্যাস ইত্যাদি চাষ পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।৩. সম্পূরক খাদ্যের যোগান বৃদ্ধি: খাদ্যের সার্বিক যোগান বাড়ানোর জন্য ভুট্টা, আলু, ডাল, তেলবীজ, শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদিও অধিক পরিমাণে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এগুলোর উৎপাদন বাড়লে জনসাধারণে খাদ্যের মানও উন্নত হবে।৪. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের দ্বারাও খাদ্য-চাহিদার সাথে খাদ্যের যোগানের সামঞ্জস্য বিধান করা যায়। ভাত ও রুটির সাথে বেশি পরিমাণে আলু, সবজি ইত্যাদি গ্রহণ করলে চাল ও গমের চাহিদা কমবে এবং তার যোগান চাহিদার সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।৫. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়াতে হলে এখানে প্রায় প্রতিবছর সংঘটিত বন্যায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়া রোধ করতে হবে। দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বন্যায় ফসলহানি কমবে এবং খাদ্যের যোগান অনেকটা স্থিতিশীলও হবে।৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এর ব্যবহার: দেশে খাদ্যের যোগান বাড়াতে হলে কৃষকদের খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদনের উদ্ভাবিত নবতর উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। একই সাথে উৎপাদিত খাদ্য দেশে-বিদেশে যাতে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা যায় তারও ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে তথ্য ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করা যায়।সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ ছাড়াও উপরিউল্লিখিত পদক্ষেপগুলোও প্রণিধানযোগ্য।