উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব খাদ্যে ভেজাল মেশানোর বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে মাছ ও ফল না কিনেই বাড়ি ফিরলেন ।এক খাদ্যের সাথে অন্য খাদ্যের মিশ্রণ, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যে মেশানো, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহার, খাদ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে রং প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয় একত্রে খাদ্যে ভেজাল বলে পরিচিত। এসব খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব ঢাকার কাওরান বাজারে রাতে মাছ কিনতে গিয়ে দেখেন যে, মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন মাছগুলো কবে ধরা হয়েছে? মাছওয়ালা উত্তর দিল গতকাল। ফলবাজারে গিয়েও তিনি দেখলেন যে, তাজা তাজা আম যেন এখন গাছ থেকে পাড়া হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে মাছ ও ফল এত টাটকা থাকার কথা নয়। তার মনে খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কিত সন্দেহ কাজ করায় তিনি এগুলো না কিনেই বাড়ি ফিরলেন। বর্তমানে শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে ফলমূল, শাক- সবজি, মাছ-মাংস, দুধ, মিষ্টি ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। এসব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে রয়েছে— ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কাপড়ের রং, কীটনাশক ইত্যাদি। এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয় এবং খাদ্যদ্রব্যকে কৃত্রিম উপায়ে সতেজ রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়। এ ধরনের খাবার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সুস্থ থাকতে হলে এসব ভেজাল খাবার পরিহার করা আবশ্যক ।