উদ্দীপকের আলোকে বিচার করলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার অভাব দূরীকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে এবং সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয়কে নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় নিতে হবে। খাদ্য ক্রয়যোগ্যতা যেন সকলেরই থাকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকের ছকে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি ও মজুরি সূচক পরিবর্তন কমে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতির হার কমে যাওয়া ও মজুরি সূচক পরিবর্তন বেড়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি হলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং নির্দিষ্ট আয়ের লোকেরা তা ক্রয় করার ক্ষমতা হারয়ে ফেলে। এর ফলে নিম্ন আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যপ্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের কাশেম স্যারের কথা থেকে জানা যায়, বর্তমান সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান, গবেষণা জোরদার, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য ক্রয়যোগ্যতা আয়ত্তে রাখা। এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা, খোলা বাজারে খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা, সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের কার্যক্রমের ওপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার।