উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের ও জনগণের ভূমিকা অপরিসীম।নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ হলো খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্যের গুণগত মান, পুষ্টিমান এবং ভেজালমুক্ততা বজায় রাখা। এটি খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি স্তম্ভ তথা প্রাপ্যতা, ক্রয়যোগ্যতা, উপযোগিতা বা ব্যবহারের মধ্যে 'ব্যবহার' অংশটিকে শক্তিশালী করে।উদ্দীপকের প্রবাহচিত্রে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ণ ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রধান ভূমিকা হলো কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি স্তরে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে রাষ্ট্রকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি। জনগণ যদি ভেজাল খাদ্য চিহ্নিত করতে না পারে বা - সস্তা ও নিম্নমানের খাদ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। জনগণের উচিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। এছাড়া, খাদ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও রোগের ঝুঁকি মুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। অতএব, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও জনগণের সচেতনতা উভয়ের ভূমিকাই অপরিহার্য।