বৈদেশিক সাহায্য সর্বদাই খারাপ নয় এবং সবক্ষেত্রেই তা পরনির্ভরশীলতা বাড়ায় না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশসমূহে পর্যাপ্ত মূলধনের স্বল্পতা নিরসনে বৈদেশিক সাহায্য বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মূলধনের স্বল্পতায় বাধ্য হয়েই বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় সংকুলান করতে না পেরে বৈদেশিক সাহায্যে নির্ভরশীল হওয়া নতুন কিছু নয়। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, মহাসড়ক, রেললাইন উন্নয়ন, বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন, বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি নির্মাণে বৈদেশিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বৈদেশিক সাহায্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাব পূরণ করে থাকে। সাধারণত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈদেশিক সাহায্যের পরমুখাপেক্ষী করে রাখা লক্ষ থাকে না। আবার বৈদেশিক সাহায্য আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করে থাকে। এ বৈদেশিক সাহায্য এক ধরনের বাহ্যিক অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে যার ওপর ভিত্তি করে দেশ স্বনির্ভরতা অর্জনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এভাবে বৈদেশিক সাহায্য জরুরি প্রয়োজনে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে 'সাপ্লিমেন্ট' হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তাই বৈদেশিক সাহায্য সবসময় পরনির্ভরশীলতা বাড়ায়—কথাটি সত্য নয়।