বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।বিশ্বায়ন হলো একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া যেখানে বিশ্ব আন্তঃসম্পর্কিত এবং আন্তঃযোগাযোগের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি অংশের সাথে অন্যান্য অংশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক আন্তঃনির্ভরতাই হচ্ছে বিশ্বায়ন। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী অবাধে একদেশ থেকে অন্যদেশে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে শ্রম চলাচল করতে পারে বিধায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে শ্রমের অবাধ প্রবাহ ঘটে। পুঁজি বা মূলধনের অবাধ প্রবাহ বিশ্বায়নের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনের আন্তর্জাতিক গতিশীলতার পথ সম্প্রসারিত করেছে। বিশ্বায়নের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রসার, তথ্য ও প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নয়ন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, বাণিজ্য উদারীকরণ ইত্যাদির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটেছে।উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, আমাদের দেশে বিশ্বায়ন ধারণার সঙ্গে পরিচয় ঘটে নব্বই দশকের শেষ দিকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশসমূহ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে BIMSTEC, ASEAN, SAPTA, EU এর মতো বেশকিছু আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে। ফলে এ সকল অঞ্চলে পুঁজি, শ্রম ও পণ্যের অবাধ প্রবাহ পরিলক্ষিত হয়, যা এদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং অর্থনৈতিক উন্নতির পথে পরিচালিত করে। এতে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ উন্নত দেশের কাছ থেকে অনেক সুবিধা লাভ করে থাকে। এভাবে বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।