জনাব কায়েসের উৎপাদিত শুঁটকি অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য হিসেবে বিদেশে রপ্তানি করলে তা প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্যকরে। যে সকল দ্রব্য আগে রপ্তানি করা হতো না, কিন্তু বর্তমানে রপ্তানি করা হয় তাকে অপ্রচলিত দ্রব্য বলে। এসব দ্রব্যের মধ্যে তৈরি পোশাক, হোসিয়ারি দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত দ্রব্য উল্লেখযোগ্য। অপ্রচলিত দ্রব্য হিসেবে হিমায়িত খাদ্য একটি প্রধান রপ্তানিজাত দ্রব্য। বাংলাদেশ হতে টাটকা ও লোনামাছ, হিমায়িত গলদা চিংড়ি, হিমায়িত ইলিশ, ব্যাঙের পা এবং বিভিন্ন মাছের শুঁটকি রপ্তানি করা হয়। এসব দ্রব্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ইতালি, ভারত, হল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করা হয়। ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত হতে অর্জিত আয় যথাক্রমে ৫৬৮ ও ৩৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।জনাব কায়েসের উৎপাদিত শুঁটকি অ-প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে জনাব কায়েস একজন মৎস্যজীবী এবং বর্ষায় সে প্রচুর মাছ শিকার করেন যার সবটুকু বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রচুর মাছ অবিক্রীত থেকে যায়। যা তিনি শুঁটকি হিসেবে সংরক্ষণ করেন। বিদেশে শুঁটকির চাহিদা ও দাম ভালো হওয়ায় জনাব কায়েস মজুদকৃত শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করে তার অবিক্রীত মাছের লোকসানকে মুনাফায় রূপান্তর করেন। জনাব কায়েসের মতো অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও যদি শুঁটকি উৎপাদন ও রপ্তানি করে তাহলে এ খাত আরো সম্প্রসারিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।