উদ্দীপকে বর্ণিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক সাহায্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিক প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি।
বৈদেশিক সাহায্য দেশের অর্থনীতির পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি করে। দেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। অপরদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশকে স্বনির্ভর করে। বৈদেশিক সাহায্যে শর্তযুক্ত থাকে। কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শর্তহীন। তাই বৈদেশিক সাহায্যে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধির হার কম। অপরদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিল্পে শ্রমের গতিশীলতা বেশি। বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এ অর্থসামগ্রী উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য থেকে প্রাপ্ত অর্থদাতাদের নির্দেশিত খাতেই কেবল ব্যয় করতে হয়। অর্থাৎ দাতাদের অর্থ এমন সবক্ষেত্রেই কেবল ব্যবহার করার অনুমতি থাকে, যার মাধ্যমে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হয়। কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্বাধীনভাবে যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যয় করার সামর্থ্য সংশ্লিষ্ট দেশটির থাকে। এ কারণেই সাহায্যের পরিবর্তে বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ একসময় শুধু প্রচলিত দ্রব্যসামগ্রী রপ্তানি করত। কিন্তু বর্তমানে অনেকগুলো অপ্রচলিত দ্রব্যসামগ্রী রপ্তানি করে। ফলে দেশ শক্তিশালী হয় উঠছে। এর মধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কঠিন শর্ত মেনে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করছে। এ সমস্ত শর্ত বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে গড়ে তুলছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধিক প্রয়োজনীয়।