বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নিম্নলিখিত নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানি আয় আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা একমুখী নির্ভরতা সৃষ্টি করে। এ নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য (যেমন ফল, সবজি, চা, ধান), ওষুধ এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। বর্তমানে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাই প্রধান রপ্তানি গন্তব্য, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ বাজারগুলোতে প্রবেশের কৌশল নিতে হবে।
তৃতীয়ত, পণ্যের গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অপরিহার্য। রপ্তানি পণ্য যাতে ISO, HACCP, Halal ইত্যাদি সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে, সেজন্য রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার ও পরামর্শ সেবা দিতে হবে।
চতুর্থত, রপ্তানি সহায়ক অবকাঠামো ও লজিস্টিক উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে বন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য আটকে থাকার কারণে রপ্তানি খরচ ও সময় বেড়ে যায়। পণ্য পরিবহণে সময় ও ব্যয় কমাতে বন্দরের আধুনিকায়ন, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, রাস্তা-রেলপথের উন্নয়ন এবং ওয়্যারহাউজ সুবিধা বাড়াতে হবে।
পঞ্চমত, ডিজিটাল ও ই-কমার্সভিত্তিক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। সবশেষে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহায়ক নীতি ও প্রণোদনা যেমন রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (EPZ), নগদ সহায়তা, কর ছাড় ইত্যাদি আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হন।
এ পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং বহুমুখী ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠবে।