উদ্দীপকের শিক্ষকের মন্তব্য “বৈদেশিক সাহায্য নয়; বৈদেশিক বাণিজ্যই একটি দেশকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে।"-উদ্দীপকের আলোকে তা সমর্থনসহ ব্যাখ্যা করা হলো-বৈদেশিক সাহায্য দেশের অর্থনীতির পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি করে। দেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। অপরদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশকে স্বনির্ভর করে। বৈদেশিক সাহায্যে শর্তযুক্ত থাকে। কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শর্তহীন। তাই বৈদেশিক সাহায্যে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধির হার কম। অপরদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিল্পে শ্রমের গতিশীলতা বেশি। বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এ অর্থসামগ্রী উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য থেকে প্রাপ্ত অর্থদাতাদের নির্দেশিত খাতেই কেবল ব্যয় করতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বৈদেশিক সাহায্য কঠিন শর্তযুক্ত হয়, সুদের হার উচ্চ হয়ে থাকে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দাতার স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যবহার হয় এবং গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখে। অন্যদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, স্বাধীনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় এবং বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাসের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়।সুতরাং বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য নয়; বৈদেশিক বাণিজ্যই একটি দেশকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে।"