বৈদেশিক বাণিজ্য একটি দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে।
দুটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সেবার বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা বৈদেশিক বাণিজ্য বলে। আর বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্য কোনো দেশ থেকে খাদ্য, প্রকল্প, দান ও অনুদান ইত্যাদি সহায়তা গ্রহণ করাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য দুটোরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধাই বেশি।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রপ্তানি আয় অপেক্ষা আমদানি ব্যয় বেশি। ফলশ্রুতিতে সরকার তার ব্যয় মেটানোর জন্য বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এ ধরনের সাহায্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশকে পরনির্ভরশীল করে তুলে। অন্যদিকে, বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত, স্বাধীন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাস করা যায়। ফলে দেশটি আত্মনির্ভরশীল হয়। অর্থাৎ, বৈদেশিক 'সাহায্যের পরিবর্তে বৈদেশিক বাণিজ্য দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে।
বৈদেশিক সাহায্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব এবং কঠিন শর্তযুক্ত হয়। এটি দেশকে স্বাবলম্বী করার পরিবর্তে পরনির্ভরশীল করে। কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদের কাম্য ব্যবহার হলে উন্নতমানের অধিক পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন ও উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এতে রপ্তানি আয় বাড়ে এবং বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কমে। এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।