উদ্দীপকের আলোকে "বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজনীয় অথচ ক্ষতিকারক”- এই উক্তিটি যথার্থ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বৈদেশিক সাহায্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজনীয় কারণ: বাংলাদেশের মতো দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে এবং নিজস্ব মূলধনের ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক সাহায্য অপরিহার্য। এটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প যেমন অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অর্থ জোগান দেয়, যা. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আবশ্যক। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এটি দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করে।
বৈদেশিক সাহায্য ক্ষতিকারক হতে পারে কারণ: উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, “বৈদেশিক সাহায্য অনেক সময় শর্তযুক্ত হয়ে থাকে”। এই শর্তগুলো সাহায্য গ্রহণকারী দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলে, ফলে দেশ নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়। যদি সাহায্য ঋণের আকারে আসে, তবে তা দেশের ওপর ঋণের বোঝা চাপায় এবং ভবিষ্যতে সুদসহ পরিশোধের চাপ তৈরি করে, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষমতা হ্রাস করে।
সুতরাং, বৈদেশিক সাহায্য বাংলাদেশের মতো দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও এর শর্তযুক্ততা, পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টি এবং ঋণের বোঝা বৃদ্ধির মতো ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এর গ্রহণ ও ব্যবহারে বিচক্ষণতা ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।