উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্য বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে অধিক কার্যকর।
বৈদেশিক সাহায্য কঠিন শর্তযুক্ত, অনেক ক্ষেত্রে সুদের হারও উচ্চ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দাতার স্বার্থ সংরক্ষণ এবং গ্রহীতা দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখে। কিন্তু বাণিজ্য এরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে না বরং অর্থনীতিকে সচল রাখে।
উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক সাহায্য দীর্ঘমেয়াদে পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্য তা করেনা। বৈদেশিক সাহায্য অর্থনীতির পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি করে, দেশের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে, অপরদিকে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশকে স্বনির্ভর করে। বৈদেশিক সাহায্য শর্তযুক্ত কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্য শর্তহীন। বৈদেশিক সাহায্যে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধির হার কম কিন্তু বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিল্পে শ্রমের গতিশীলতা বেশি, বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এ অর্থ সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ব্যয় হয়। কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য থেকে প্রাপ্ত অর্থদাতাদের নির্দেশিত খাতেই কেবল ব্যয় করতে হয়, দাতারা অনেক সময় চায় না উন্নয়নশীল দেশ পরোমুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি পাক।
তাই উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য ও বৈদেশিক বানিজ্যের মধ্যে বৈদেশিক বানিজ্যই উত্তম।