প্রথমত, কেইনসীয় ভাবধারায় বিশ্বাসী হয়ে প্রতিটি দেশের সরকার কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ লক্ষ্যে জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, শিক্ষার সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, অবসর ভাতা, বেকার ভাতা, বয়স্ক ভাতা প্রদান, শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রভৃতি কল্যাণমূলক ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কাজের জন্য সরকার প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে। যা সামগ্রিক জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্বিতীয়ত, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের কৃষি, শিল্প, পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তনসহ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।তৃতীয়ত, সাম্প্রতিককালে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। সে জন্য সরকারকে দক্ষ সেনাবাহিনী গঠন, যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ব্যয়ের পরিমাণও যথেষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে।চতুর্থত, শিল্প বিপ্লব ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে প্রায় সকল দেশেই শহরাঞ্চলের বিস্তৃতি ঘটছে। মানুষ হচ্ছে শহরমুখী। ফলে শহরাঞ্চলে রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, চিত্তবিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি প্রভৃতি সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।