বাজেটে মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হওয়ায় বলা যায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের উদ্দেশ্যে জনকল্যাণ, মুনাফা অর্জন নয়।বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় এদেশের অর্থনীতি খুব বেশি সমৃদ্ধি নয়। সরকারের আয়ের খাতগুলো খুব সীমিত হওয়ায় প্রায়ই ঘাটতি বাজেট পরিলক্ষিত হয়। এ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণগ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা খুব কঠোর না হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয় না। তাছাড়া এদেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন রকম উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে যাদের প্রকল্প ব্যয়ও কম নয়। আবার কৃষি, যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সরকারি ঋণের সুদ বাবদ প্রতিবছর সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয় যা অর্জিত আয়ের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এমতাবস্থায় সরকারের মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারকে প্রতিবছরের বাজেটে উচ্চ অঙ্কের সুদ গুনতে হচ্ছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে সরকার নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ব্যয় করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকের তথ্যানুসারে বলা যায় সরকার উন্নয়নশীল খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যয় করে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭৫,৮৩৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্বাহ করে। তাছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে ৬৩,০২৭ কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এ সকল খাত হতে সরকার খুব বেশি লাভবান হতে পারে না তবুও এ সকল খাতের উন্নয়নে সরকার পর্যাপ্ত ব্যয় ও বিনিয়োগ করে থাকে। ফলে দেখা যায় মোট ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হয়। সেক্ষেত্রে সরকার ঋণ গ্রহণ করে বাজেটে ভারসাম্য আনে। ফলে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মোট আয় ২,৫০,৫০৬ ও মোট ব্যয় ২,৫০,৫০৬ অর্থাৎ উভয়ই সমান হয়। এক্ষেত্রে মুনাফা লাভের কোনো সুযোগ থাকে না।সুতরাং আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশ সরকার মুনাফা অর্জনের জন্য নয় বরং জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যয় করে থাকে। এর জন্য সরকারকে প্রতিবার বাজেটে উচ্চ অঙ্কের সুদ ও ভর্তুকি প্রদান করতে হলেও উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য সরকার সর্বদা যথেষ্ট সচেতন দৃষ্টি রাখে।