উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ঋণের দুটি উৎস হলো অভ্যন্তরীণ উৎস (তালিকা ক) এবং বৈদেশিক উৎস (তালিকা খ)। এদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস বাংলাদেশের জন্য বেশি কল্যাণকর।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করলে দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বজায় থাকে। কোনো বৈদেশিক শর্ত মেনে চলতে হয় না, ফলে দেশের ওপর অন্য কোনো দেশের প্রভাব পড়ে না। তাছাড়া, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ দেশের অভ্যন্তরেই থাকে, যা স্থানীয় আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত এবং উচ্চ মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি থাকে। বৈদেশিক ঋণের সুদ বিদেশে চলে যায়, যা দেশের মুদ্রার মান কমাতে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্জিত সুবিধাগুলো অনেক সময় দেশের প্রকৃত আর্থিক উন্নয়নে কাজে আসে না। উপরন্তু, বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য বেশি কল্যাণকর। কারণ এটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে. এবং দেশের আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। তবে বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ সম্পূরক উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।