জহিরের প্রদত্ত আয়কর আয় বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে দিনমজুর ও শ্রমিকদের প্রদত্ত মূল্য সংযোজন কর (VAT) সমাজে আয় বৈষম্য সৃষ্টি করে।
অর্থনীতিতে কর ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো আয় বৈষম্য হ্রাস করা। আয়কর সাধারণত ব্যক্তির আয়ের ওপর ধার্য করা হয় এবং এর বৈশিষ্ট্য হলো, যার আয় যত বেশি, তাকে তত বেশি হারে কর দিতে হয়। এই প্রগতিশীলতার কারণে আয়কর ধনী ও দরিদ্রের আয়ের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে, কারণ এটি উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি অর্থ সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর (VAT) পণ্যের উৎপাদন বা বিক্রয়ের উপর ধার্য করা হয় এবং পণ্য বা সেবা ক্রয়কারী সকলকেই একই হারে এটি পরিশোধ করতে হয় তাদের আয় বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে। ফলে এধরনের কর দরিদ্রদের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে, কারণ তাদের আয়ের একটি বড় অংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ে ব্যয় হয়।
উদ্দীপকে জহির তার আয়ের ওপর আয়কর পরিশোধ করেন, যা তার আয় অনুযায়ী ধার্য হয় এবং সমাজে আয় বৈষম্য দূরীকরণে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সরকার এই আয়করের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করে দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। অপরদিকে, একজন দরিদ্র ব্যক্তিকেও একটি প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য একই পরিমাণ VAT দিতে হয়, যা একজন ধনী ব্যক্তি দেন, যা তাদের সীমিত আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং সমাজে আয় বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে আয়করের মতো আয়ের ওপর সরাসরি ধার্য করের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।