উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ব্যয় নির্বাহের সর্বশেষ উপায় বা ব্যবস্থা হলো নতুন কাগজি নোট ছাপানো। আধুনিককালে পৃথিবীর সকল দেশের সরকার নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। আয়ের চিরাচরিত উৎসগুলো থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সবসময় যথেষ্ট হয় না। তখন বাধ্য হয়েই সরকারকে নতুন কাগজি নোট ছাপাতে হয়।উন্নয়নের জন্য বাড়তি ব্যয় মেটানো বা যেকোনো উদ্দেশ্যেই সরকার নতুন নোট ছাপাক না কেন, তার প্রভাব পড়ে দেশের মোট অর্থের যোগানের ওপর। নতুন নোট ছাপিয়ে বাড়তি ব্যয় নির্বাহের ফলে মজুরি, বেতন, খাজনা, সুদ, মুনাফা ইত্যাদি আকারে জনসাধারণের আয় বাড়ে। প্রকারান্তরে তা জাতীয় আয় বাড়ায়। তবে এ পন্থায় সরকারি ব্যয় মেটানোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে দেশে বিদ্যমান দামস্তবের ওপর। নতুন নোট ছাপিয়ে বিনিয়োগ বাড়লে তার দরুন অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হয়; কিন্তু এর সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রব্য ও সেবার উৎপাদন বাড়ে না। এ অবস্থায় বাড়তি চাহিদা মুদ্রাস্ফীতির মাত্রাই বৃদ্ধি করে জনদুর্ভোগ বাড়ায়।তবে সরকারের বাড়তি ব্যয়ভাব বহনের জন্য নতুন নোট ছাপানোর পদ্ধতি দেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটালেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি স্বার্থে তার আশ্রয় গ্রহণ অযৌক্তিক নয়। মুদ্রাস্ফীতির মাত্রা বাড়ার কারণে মুনাফা বাড়লে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে, যা পরিণামে উৎপাদনই বাড়ায়।তাই বাড়তি নোট ছাপানোর পাশাপাশি যদি অধিক পরিমাণে দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনেরও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তবে সে অবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। শুধু তাই-ই নয়, সরকারের হাতে বাড়তি অর্থ, ব্যয়বহুল ও অতি-প্রয়োজনীয় আর্থ- সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং অব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ সদ্ব্যবহারের জন্য ব্যয় করা হয়, তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যয় নির্বাহের সর্বশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অর্থনীতির ওপর সুপ্রভাব পড়ে।