উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি ব্যয়ের খাতগুলো হলো শিক্ষা, চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি। নিচে এগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো-
১.শিক্ষা: শিক্ষা সরকারি ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অনেক দেশে বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা সমগ্র জনগণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই বেসরকারি শিক্ষার পাশাপাশি পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
২. চিকিৎসা: দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য সরকারকে হাসপাতাল, ডাক্তার, ওষুধ ও সেবা প্রদান, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করতে হয়। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধ করার জন্য সরকার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এসব কাজে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।
৩. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা: অব্যাহতভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশের ভেতরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বেসামরিক প্রশাসনের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা: আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশেই সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার মধ্যে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, পেনশন, বয়স্কভাতা, বেকারভাতা, গ্রাচ্যুইটি (পারিতোষিক), যৌথ বিমা ইত্যাদির জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে।
৫. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: দেশে পূর্ণ কর্মসংস্থান অর্জন ও তা বজায় রাখার জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। পূর্ণ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সরকারকে নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্ম সুযোগ সৃষ্টি, গণপূর্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও অন্যান্য উপায়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারকে প্রচুর ব্যয় করতে হয়। উপরে যেসব ব্যয়সমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।