সরকারের ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যাবলি পূরণে প্রাপ্ত ঋণ যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। কেননা, উদ্দীপকে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি থেকে ঋণ গ্রহণ করে। এ উৎসগুলো ছাড়াও আরো অনেক উৎস আছে, যেগুলো থেকে সরকার ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
১. বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে সরকার তার ব্যয়ের অর্থসংস্থান করতে পারে। সরকারি ঋণপত্রের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক সরকারকে ঋণ প্রদান করে। অনেক সময় সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে ঋণপত্র বা বন্ড ক্রয় করতে বাধ্য করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক বহুগুণ ঋণ সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় যে অতিরিক্ত ক্যাশ রিজার্ভ সৃষ্টি করবে, তার মাধ্যমে সরকারি বন্ড ক্রয় করতে পারবে।
২. ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো দেশের সরকার তার প্রয়োজনে বিদেশি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। বিদেশি কোনো ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন ধরনের বন্ড ক্রয় করে সরকারকে ঋণ দিতে পারে।
৩. বিদেশি সরকার থেকে নগদ অর্থ বা দ্রব্যের আকারে বা উভয় ধরনের ঋণ কোনো দেশ বিদেশি সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারে। এ ঋণ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এসব ঋণ বিভিন্ন ধরনের শর্তসাপেক্ষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে ঋণ গ্রহণ করতে থাকে।
৪. আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরকার বিদেশি বিভিন্ন ধরনের সেবা সংস্থার কাছ থেকেও ঋণ গ্রহণ করে থাকে। এদের মধ্যে UNDP, UNESCO, DFID, DANIDA ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আর্থসামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, ঘাটতে বাজেট পূরণ ও জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। এ উদ্দেশ্যবলি পূরণে সরকার উল্লিখিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে, যা যথেষ্ট নয়। বরং এগুলো ছাড়াও উপরে আলোচিত উৎসগুলো থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হবে।