উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, 'ক' ব্যক্তির ওপর অর্পিত করটি হলো পরোক্ষ কর (Indirect Tax)।
নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো:
১. করের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: সাধারণত যে করের প্রাথমিক ভার (Impact of Tax) এবং চূড়ান্ত ভার বা বোঝা (Incidence of Tax) ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে, তাকে পরোক্ষ কর বলে। অর্থাৎ, সরকার যার ওপর এই কর ধার্য করে, তিনি নিজে সেই কর বহন না করে কৌশলে অন্যের ওপর (সাধারণত ভোক্তার ওপর) চাপিয়ে দেন।
২. উদ্দীপকের সাথে মিল: উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ক' ব্যক্তি তার করের বোঝা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন। এটি পরোক্ষ করের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। উদাহরণস্বরূপ, সরকার যখন কোনো সাবান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কর ধার্য করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠান করের সমপরিমাণ টাকা সাবানের দামের সাথে যোগ করে দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সাবানটি কেনার সময় সাধারণ ক্রেতাকেই সেই করের টাকা দিতে হয়। এখানে করদাতা হলেন ব্যবসায়ী কিন্তু কর বহনকারী হলেন ক্রেতা।
৩. পরোক্ষ করের কিছু উদাহরণ: বাংলাদেশে প্রচলিত পরোক্ষ করের মধ্যে অন্যতম হলো:
ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (VAT): এটি কেনাকাটার সময় পণ্যের দামের সাথে পরিশোধ করতে হয়।
আমদানি শুল্ক: বিদেশ থেকে পণ্য আনার সময় এই কর দিতে হয়, যা পরে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার ওপর চাপানো হয়।
আবগারি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক।
৪. চিহ্নিতকরণের ভিত্তি: উদ্দীপকে 'ক' এবং 'খ' ব্যক্তির করের যে তুলনা করা হয়েছে, সেখানে করের বোঝা স্থানান্তরযোগ্যতাই (Shiftability) হলো প্রধান মাপকাঠি। যেহেতু 'ক' ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত করের বোঝা নিজে বহন না করে অন্যের ওপর অর্পণ করতে সক্ষম হচ্ছেন, তাই অর্থনীতির পরিভাষায় এটিকে পরোক্ষ কর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি সরাসরি নয় বরং পণ্য বা সেবার মাধ্যমে আবর্তিত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়।