অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে যেসব পরিকল্পনার কথা বলেছেন তা হলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পরিকল্পনাকে মূলত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য প্রণীত পরিকল্পনাকে 'স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা' (Shortterm planning ) বলা হয়। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাকে 'বার্ষিক পরিকল্পনাও' (Anual plan) বলা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা সাধারণত সরকারের বার্ষিক বাজেট হিসাবের সাথে সংগতি রেখে প্রণয়ন করা হয় । পক্ষান্তরে, বছরের বেশি কিন্তু পাঁচ বছর বা তার কম সময়ের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে 'মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা' (Medium term planning) বলা হয়। বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার শ্রেণিভুক্ত। পক্ষান্তরে, ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর মেয়াদের জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে 'দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা' (Longterm planning) বলা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা একটি দেশের দীর্ঘকালীন উন্নয়নের রূপরেখা নির্দেশ করে ।উন্নয়নশীল দেশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। এসব দেশের প্রধান প্রধান সমস্যা হলো জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান, অর্থনীতির কাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অর্জনে প্রেক্ষিত পরিকল্পনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১৯৯০-২০১০ সাল পর্যন্ত একটি ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে ২০১০-২০২১ সাল মেয়াদি আরও একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে ।