২০১০-২০২১ মেয়াদি পরিকল্পনার উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো আমাদের দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উদ্দীপকটি পড়ে জানা যায়, বাংলাদেশে সময় সময় বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পরিকল্পনাটি হলো ২০১০- ২০২১ সাল মেয়াদি প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহ এর অন্তর্গত ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে অর্জিত হবে।উদ্দীপকে এ পরিকল্পনার কয়েকটি লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলোর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যা বতর্মানের ২৩.২% থেকে পরিকল্পনাটি শেষে অর্থাৎ ২০২১ সালে ১৫% এ নামিয়ে আনা, প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা, আইসিটি সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজ করা। এসব লক্ষ্য আমাদের দেশকে আয়ের দেশে পরিণত করতে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো।বাংলাদেশে দারিদ্র্যের উচ্চহার হ্রাসের জন্য সরকার অনেক আগে থেকেই দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র; বয়স্ক দুস্থ মহিলা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এতিম প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রদান; কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, গৃহায়ন তহবিল গঠন, কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা; একটি বাড়ি একটি খামার প্রভৃতি। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনের এসব কর্মসূচি সফল হলে দেশে দারিদ্র্যের হার কমবে এবং জনসাধারণের আয় বাড়বে। দেশকে দ্রুত উন্নত করতে হলে এর মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো: প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শতকরা শতভাগ এনরোলমেন্ট; সারা দেশে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা; বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই বিতরণ; প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি; সুবিধাবঞ্চিত স্কুল-বহির্ভূত ঝরে পড়া এবং শহরের কর্মজীবী শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা ইত্যাদি। এসবের ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষিত শ্রমিকের যোগান বাড়লে উৎপাদনও আয় বাড়বে।আইসিটি তথা তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে সর্ব প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু উপায়ে পরিচালনার জন্য অন্যতম হাতিয়ার। সরকার তাই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শেখার জন্য স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষাক্রম চালু করেছে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির জন্য সরকার শিক্ষার সকল স্তরে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। তাছাড়া এ শিক্ষা ও তার ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য সকল ইউনিয়নে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করছে। এ সবই ভবিষ্যতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হার হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। সুতরাং বলা যায় আমাদের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনার উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হলে বাংলাদেশ পরিকল্পনার মেয়াদ শেষে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
HSC Economics 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Economics 2nd Paper · সৃজনশীল
২০১০-২০২১ মেয়াদি পরিকল্পনার উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো আমাদের দেশকে মধ্যম …
উদ্দীপক
Barisal · 2017
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর