দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি করে তাদের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
সাধারণত উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ জনগণ দরিদ্র হওয়ায় জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় কম হয়, ফলে জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন থাকে। বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম ও অসম। তাই জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব।
উদ্দীপকে কয়েকটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ৭.০০, ৭.৩০ এবং ৮.০০% ছিল। কিন্তু প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় যথাক্রমে ৫.২১, ৬.৩৫ ও ৭.৪%। অর্থাৎ, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো তার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় জনগণে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দারিদ্র্যের হারও হ্রাস পাবে।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোতে দারিদ্র্যের হার কমানোর জন্য অতি দরিদ্রদের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। এর আওতায় বয়স্কভাতা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলাদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়াও মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রভৃতি কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।