বিভিন্ন কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে।
পর্যাপ্ত মূলধন ব্যতীত অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো মূলধনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের শ্রমিকরা। যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা সাধারণত অদক্ষ হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় দক্ষ মানবসম্পদের অভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সঠিক উন্নয়ন নীতির অভাব, মূলধনের অভাব, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো প্রভৃতির জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো উন্নত আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো। উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার অভাব, বিদ্যুৎ শক্তির নিরবচ্ছিন্ন যোগানের অভাব, উন্নত অর্থ যোগান প্রতিষ্ঠানের অভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। এছাড়া, অনেক দেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ থেকে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি থাকে।
যথাযথ উন্নয়ন নীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসন পরিকল্পনার সফলতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু দেশের প্রশাসনিক কাঠামো অদক্ষ ও দুর্বল হলে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় থাকে না। আবার প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। ফলে বিপুল পরিমাণ মূলধনের অপচয় ঘটে। এজন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। তাছাড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জনসংখ্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সুতরাং বলা যায়, ওপরে উল্লিখিত বাধাগুলোর জন্য উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।