আতিক সাহেবের মতো দেশের পুঁজি গঠনে শেয়ারবাজার নানাভাবে ভূমিকা রাখে। শিল্প পুঁজি গঠনে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। শেয়ারবাজার এই 'শিল্প পুঁজি' (Industrial Capital) গঠন ও শিল্পের অর্থসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।প্রথমত, শেয়ারবাজার দেশে পুঁজির গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। শেয়ারবাজারে বিশেষ করে সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার প্রতিনিয়ত বেচাকেনা হয়। এর ফরে পুঁজির গতিশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।দ্বিতীয়ত, শেয়ারবাজার দেশে পুঁজি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশে অনেক উচ্চবিত্ত লোক আছে যারা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের সঞ্চয়কে কোনো উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার না করে অলসভাবে ফেলে রাখে। শেয়ারবাজার এসব সঞ্চয়কারীর অলস অর্থকে বিনিয়োগ করে পুঁজি গঠনে সহায়তা করে।তৃতীয়ত, শেয়ারবাজার দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে। সমাজে এমন অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী বা আমানতকারী আছে যারা তাদের সঞ্চয় বা আমানতকে বিনিয়োগের কাজে খাটাতে চায়। কিন্তু বর্তমান বৃহদায়তন শিল্পের যুগে কোনো ক্ষুদ্র আমানতকারীর পক্ষে এককভাবে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে শেয়ার ক্রয় করে তারা যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশগ্রহণ করতে পারে। এভাবে শেয়ারবাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে।চতুর্থত, শেয়ারবাজার জনগণকে বিনিয়োগ উৎসাহ প্রদান করে। পণ্য বাজারের মতো শেয়ারবাজারেও জনগণ ইচ্ছেমতো যেকোনো কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করতে পারে। আবার, ইচ্ছা করলে প্রয়োজনের সময় এসব শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা ফেরত পেতে পারে। এ কারণে জনগণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়। এর ফলে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।