উদ্দীপকে নাজিল ও নিভান একই ব্যবসায় জড়িত থাকলেও তাদের বিনিয়োগের মানসিকতা ও বেছে নেওয়া আর্থিক দলিলের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। নাজিল মূলত 'শেয়ার' (Equity) এবং নিভান 'ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার' (Debt instrument) এর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের কথা বলছেন। নিচে তাদের মৌলিক পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:১. মালিকানা বনাম পাওনাদারী সম্পর্ক :নাজিল পুঁজিবাজার থেকে সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করতে চান। এর ফলে যারা এই শেয়ার কিনবেন, তারা কোম্পানির আংশিক মালিক হিসেবে গণ্য হবেন এবং কোম্পানির নীতি নির্ধারণে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। অন্যদিকে, নিভান ঋণের দলিল বা ডিবেঞ্চার ক্রয় করতে চান। ডিবেঞ্চার হোল্ডাররা কোম্পানির মালিক নন, বরং তারা কোম্পানির নিকট পাওনাদার হিসেবে বিবেচিত হন।২. আয়ের প্রকৃতি ও নিশ্চয়তা :নাজিলের পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ (Dividend) পাবেন। এই লভ্যাংশ নিশ্চিত নয়; কোম্পানি লাভ করলেই কেবল তা দেওয়া হয়। কিন্তু নিভানের ক্ষেত্রে তিনি সুদ (Interest) পাবেন। এই সুদের হার নির্দিষ্ট থাকে এবং কোম্পানি লাভ করুক বা লোকসান, নিভানকে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পর নিশ্চিতভাবে সুদ প্রদান করতে কোম্পানি বাধ্য থাকে।৩. ঝুঁকি ও ক্ষতির দায়ভার :নাজিল উল্লেখ করেছেন যে তার পদ্ধতিতে "লাভ-ক্ষতির সম্ভাবনা" থাকবে। অর্থাৎ, কোম্পানি দেউলিয়া হলে বা লোকসান করলে শেয়ারহোল্ডাররা তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ হারাতে পারেন। একে 'ঝুঁকি মূলধন' বলা হয়। বিপরীতে, নিভান "ক্ষতির সম্ভাবনায় যেতে চান না"। ঋণের দলিলে ঝুঁকি অনেক কম, কারণ কোম্পানির অবসান ঘটলে সবার আগে পাওনাদার বা নিভানের মতো ঋণদাতাদের টাকা পরিশোধ করা হয়।৪. মূলধনের ব্যয় ও কর সুবিধা :কোম্পানির দৃষ্টিকোণ থেকে নাজিলের পদ্ধতির (শেয়ার) মূলধন ব্যয় বেশি হতে পারে কারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নেন বিধায় বেশি লভ্যাংশ প্রত্যাশা করেন। তবে নিভানের পদ্ধতি (ঋণপত্র) কোম্পানির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে কারণ ঋণের ওপর প্রদত্ত সুদ 'করযোগ্য আয়' থেকে বাদ দেওয়া যায় (Tax Shield), যা কোম্পানির করের বোঝা কমায়।