উদ্দীপকের আলোকে মুদ্রাস্ফীতির কারণগুলো চিহ্নিত করা হলো—
১. বেতন বৃদ্ধি : স্বাধীনতাত্তোরকালে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারকে কয়েক বছর পর পর কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
২. উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি : শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের স্বল্পতা, যন্ত্রপাতির অভাব, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, কাগজ ও নিউজপ্রিন্ট এবং পেট্রোল ও পেট্রোলজাত দ্রব্যের যোগান মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছেই। ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে।
৩. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি : আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কল্যাণমূলক ধারণা প্রবর্তনের ফলে প্রত্যেকটি দেশকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকারি ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পায় সেই অনুপাতে উৎপাদন না বাড়লে দামস্তর বেড়ে যায়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।
8. পরোক্ষ কর : পরোক্ষ কর দ্রব্যসামগ্রীর দামের ওপর প্রভাব ফেলে দাম বৃদ্ধি করে। যদি এ হার বেশি হয় তাহলে দামস্তর বেশি হারে বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে এ হার কম হলে দামস্তর কম হারে বৃদ্ধি পায় ।
৫. অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি : সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। সামাজিক অনুষ্ঠান, শিশুপার্ক, স্টেডিয়াম ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়।
৬. মজুরি বৃদ্ধি : শ্রমিক সংঘ আন্দোলন, দরকষাকষি, সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সক্ষম হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে দামস্তর বৃদ্ধি পায় ও মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয়।