উদ্দীপকের চিত্রে যে মুদ্রাস্ফীতি দেখানো হয়েছে তা ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে পরিচিত। এ মুদ্রাস্ফীতি কেবল আর্থিক নীতির দ্বারাই নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না তা নিচে আলোচনা করা হলো- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসকল পদ্ধতি অবলম্বন করে সেগুলোর সমষ্টিই হলো আর্থিক নীতি। এ নীতির অধীনে ব্যাংক হার বৃদ্ধি, নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি, খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বিক্রয় ইত্যাদির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে অর্থের যোগান ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণ হ্রাস করে। কিন্তু কখনো কখনো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয় না। এ পদ্ধতির কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে ঋণগ্রহীতাদের ওপর। মুদ্রাস্ফীতির সময় তারা অধিক ঋণ নিতে গেলে তবেই এ ব্যবস্থা কার্যকর হয় ও দামস্তর কম ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।আর্থিক নীতি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট না হলে সরকার রাজস্ব নীতিরও আশ্রয় নেয়। রাজস্ব নীতির মধ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাস, করের পরিমাণ বৃদ্ধি, সরকারি ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি।মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আর্থিক ও রাজস্ব নীতির আশ্রয় গ্রহণ সত্ত্বেও কখনো কখনো সরকারকে এসবের সাথে কিছু প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হয়। এগুলো হলো: দাম নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং, মজুরি নিয়ন্ত্রণ, আমদানি বৃদ্ধি, ফটকা কারবার নিয়ন্ত্রণ।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রে দাম P₁ থেকে P₂-তে পরিবর্তন হলে অর্থাৎ খরচ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল আর্থিক নীতির প্রয়োগই যথেষ্ট নয়।