উদ্দীপকের আলোকে আয় ও সম্পদের বণ্টনের ওপর মুদ্রাস্ফীতির ঋণাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজে আয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ধনীরা আরো ধনী ও গরিবরা আরো গরিব হতে থাকে। এতে এক শ্রেণির লোক লাভবান আর অন্য শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকেও হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে, সরকারি চাকরিজীবী, বড় ব্যবসায়ী শ্রেণি, শিল্পপতি সমাজে এরা লাভবান হতে থাকে। এর ফলে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ঋণগ্রহীতা লাভবান হয়। স্থির আয়ের জনগণ যেমন- বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। একটি উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে একই সমাজের দুইমুখী অবস্থান কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এতে সামগ্রিকভাবে সকলে লাভবান হয় না। ফলে অর্থনীতিতে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সরকারি বেতন বৃদ্ধি পায় বলে সরকার ব্যয় নির্বাহের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান করে। কিন্তু এতে শুধু একশ্রেণি লাভবান হচ্ছে।
অপরদিকে, ভূমিহীন কৃষক, বেকার গরিব জনসাধারণ স্থির বা সীমিত আয়ের লোকদের জীবন নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।সুতরাং, আমরা বলতে পারি যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কাম্য নয়। দেশের বেশিরভাগ সম্পদ কুক্ষিগত হয় মুষ্টিমেয় ব্যক্তিবর্গের হাতে। বাকি সিংহভাগ জনসাধারণ মানবেতর জীবন নির্বাহ করে। দেশের এই বিপুল পরিমাণ জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। এটি উন্নয়নের পরিপন্থী।