উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষেরা চলমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির শিকার; তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ শ্রেণির মানুষদেরকে ভোগান্তি থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। নিচে তা আলোচনা করা হলো:১. উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশে বিদ্যমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিকারের অন্যতম উপায় হলো কৃষি, শিল্পসহ সব খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি। দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন তথা যোগান যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলে তা তখন বর্ধিত চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। সে অবস্থায় দামস্তরের ঊর্ধ্বগতি রোধ হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।২. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস: উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেলে উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে যায়। তখন মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিকারের জন্য তাই উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা প্রয়োজন।৩. অর্থ ও ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণ: অর্থ ও ঋণের যোগানের বিপুল বৃদ্ধি বাংলাদেশে চলমান মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ। তাই মুদ্রাস্ফীতির প্রতিকার করতে হলে বাংলাদেশে ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রার যোগান এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কর্তৃক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।৪. উপযুক্ত রাজস্ব নীতি গ্রহণ: বাংলাদেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রতিকারার্থে বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজস্ব নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর অধীনে পরোক্ষ করের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ করের আওতা ও হার বৃদ্ধি, অনুৎপাদনশীলও অপ্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাস, ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারি ঋণ গ্রহণ, সুদের হার বৃদ্ধি দ্বারা সঞ্চয় বৃদ্ধি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।৫. অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: আর্থিক ও রাজস্ব পদ্ধতি ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি রোধের জন্য সরকার কিছু প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এগুলো হলো: দাম নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং, মজুরি নিয়ন্ত্রণ, ফটকা কারবার নিয়ন্ত্রণ, আমদানি বৃদ্ধি ইত্যাদি।সুতরাং বলা যায়, উপরিউল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করলে দেশে বিরাজমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে এবং সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।