মুদ্রাস্ফীতি সমাজের সব শ্রেণির ওপর সমান প্রভাব ফেলে না। এটি কিছু শ্রেণির জন্য লাভজনক হলেও অন্যদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মূলত যারা উৎপাদক, ব্যবসায়ী এবং ঋণগ্রহীতা তারা মুদ্রাস্ফীতির দ্বারা উপকৃত হয়। অন্যদিকে, যারা নির্ধারিত আয়ের চাকরিজীবী, শ্রমিক এবং ঋণদাতা, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মুদ্রাস্ফীতির সময় উৎপাদকরা তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে অধিক মুনাফা করতে পারে, তাই তারা লাভবান হয়। একইভাবে, ঋণগ্রহীতারা উপকৃত হয়, কারণ তারা পুরানো সুদের হারে ঋণ পরিশোধ করে, যা বাস্তবে কম মূল্যমানের হয়ে যায়।অপরদিকে, সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। ঋণদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তাদের ঋণের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। এছাড়া, চাকরিজীবী, শ্রমিক ও পেনশনভোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, কারণ তাদের আয় স্থির থাকলেও ব্যয় বেড়ে যায়।
এছাড়া, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জমির মালিকরা লাভবান হয়, কারণ তাদের সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তাদের 'আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতি উচ্চবিত্ত ও উৎপাদকদের জন্য লাভজনক হলেও সাধারণ জনগণের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং জীবনযাত্রার মান হ্রাস করে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।