A দেশের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশি পরিমাণ ভর্তুকি দিতে বাধ্য হয়েছে, যা সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। এই ব্যয়ের বৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে নিম্নলিখিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারে:১. মুদ্রাসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়: সরকার যদি জ্বালানি খাতে বেশি ভর্তুকিদেয় বা অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করে, তাহলে বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে চাহিদা বাড়লেও পণ্য ও সেবার মূল্যস্ফীতি ঘটে, যা সামগ্রিক মূল্যস্তর বাড়িয়ে দেয়।২. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়: জ্বালানির দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। ফলে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ব্যয় বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করে।৩. সরকারি বাজেট ঘাটতি ও ঋণ: জ্বালানি ভর্তুকির জন্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়। বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে সরকার বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে পারে বা অতিরিক্ত অর্থ মুদ্রণ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।৪. বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: সরকার যখন বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করতে বাধ্য হয়, তখন বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমতে থাকে। এর ফলে দেশীয় মুদ্রার মূল্য হ্রাস পায়, যা আমদানি খরচ বাড়িয়ে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে A দেশের সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির কারণে ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য হ্রাসের মাধ্যমে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে ভূমিকা রাখে।