মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবী মানুষের উপর যে প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. চাকরিজীবী: এ শ্রেণির বেতন ও মজুরি সীমিত। সীমিত বা স্থির আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় মুদ্রাস্ফীতির সময় কমে যায়। ফলে জীবনযাত্রার মান কমে যায়।
২. শ্রমিকশ্রেণি : মুদ্রাস্ফীতির সময় শ্রমিকশ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ দামস্তর বৃদ্ধির অনুপাতে মজুরি না বাড়লে, অথবা মজুরি যে হারে বৃদ্ধি পায় দামস্তর তার চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যসামগ্রী ব্যয়ের পরিমাণ কমে যায়।
৩. বিনিয়োগকারী: মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়। কারণ তারা স্থির খরচে উৎপাদন করে অধিক দামে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করে মুনাফা বৃদ্ধি করে।
৪. করদাতা: মুদ্রাস্ফীতিতে করদাতারা লাভবান হয়। কর নগদ অর্থে প্রদান করলে করের প্রকৃত ভার কম হয়।
৫. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা: মুদ্রাস্ফীতির সময় ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়; কারণ সুদ-আসলে প্রাপ্ত অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পূর্বের তুলনায় কম হয়। অন্যদিকে, সুদ-আসলে প্রদানকৃত অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পূর্বের তুলনায় কম হয় বলে ঋণগ্রহীতা লাভবান হয়।
৬. ক্রেতা ও বিক্রেতা: মুদ্রাস্ফীতিতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় বলে ক্রেতার প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, বিক্রেতা বেশি দামে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রয় করতে পারে বলে মুনাফা বৃদ্ধি পায়।
৭. কৃষকশ্রেণি: মুদ্রাস্ফীতি অবস্থায় ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, ধনী কৃষক লাভবান হয়'।
সুতরাং দেখা যায়, মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশাজীবী মানুষের মধ্যে কেউ লাভবান হয় আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।