যখন কোন দেশের সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় তখন তাকে' মুদ্রাস্ফীতি বলে। সরকারি পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে ফলপ্রসূ হচ্ছে না কারণ-দেশের সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যক্ষ করের হার ও ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং অর্থের যোগান হ্রাস করে। এসব পদক্ষেপ ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অনেক পদক্ষেপ রয়েছে। যেমন-উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ, ঋণের যোগান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, দাম নিয়ন্ত্রণ, মজুদদারি, কালোবাজার ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত পরোক্ষ কর হ্রাস, উপযুক্ত রাজস্বনীতি, সঞ্চয়ের উৎসাহ দান প্রভৃতি। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কেননা উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হলে বাজারে পণ্যের যোগান বৃদ্ধি পাবে। আর বর্ধিত দ্রব্যসামগ্রী বাজারে দাম হ্রাস করবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসবে। ঋণ প্রবাহ কমে আসলে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসবে। খাদ্যের জোগান বেড়ে গেলে খাদ্যমূল্যের মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে। মজুদদারি, চোরাচালান ও কালোবাজারিরা দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করবে। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে না।একই সাথে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হলে মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে।অতএব বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে ফলপ্রসূ হচ্ছে না।