উদ্দীপকে বর্ণিত মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবসমূহ একই নয়, বরং এটি অর্থনীতিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে।
মুদ্রাস্ফীতির ফলে কিছু গোষ্ঠী লাভবান হয়, আবার কিছু গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সমাজে আয় ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে, নির্দিষ্ট আয়ের লোক, শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের লোক এবং ক্রেতা ও ভোগকারীর ওপর মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যখন পণ্যের দাম বাড়ে, তখন তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়,কারণ তাদের আয় নির্দিষ্ট বা ধীরগতিতে বাড়ে, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে তারা একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের চেয়ে কম পণ্য ও সেবা কিনতে পারে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়।
অন্যদিকে, ঋণগ্রহীতা, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও করদাতা ইত্যাদির ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ভিন্ন হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে ইতিবাচক হতে পারে। ঋণগ্রহীতারা লাভবান হন, কারণ তারা যে অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সেই অর্থের প্রকৃত মূল্য কমে যায়, ফলে তাদের ঋণের প্রকৃত বোঝাও কমে যায়। উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরাও 'লাভবান হতে পারেন, কারণ পণ্যের দাম বাড়লে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও প্রগতিশীল করব্যবস্থার ক্ষেত্রে করদাতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু সামগ্রিকভাবে তাদের আয় বৃদ্ধি পেলে তারা হয়তো মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলে নিতে পারেন।
সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন অংশ বা শ্রেণির ওপর প্রভাব একরকম হয় না। এটি একদিকে কিছু গোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে, কিছু গোষ্ঠীকে আপেক্ষিকভাবে লাভবান করে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনে।