উদ্দীপকে 'ক' দেশে সৃষ্ট, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ (বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস, মজুরি নিয়ন্ত্রণ) কিছুটা কার্যকর হলেও, সম্পূর্ণরূপে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। এগুলোর সাথে সাথে সরকার আরও যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে তা বিশ্লেষণ করা হলো-১. রাজস্বনীতি: রাজস্বনীতি সরকারের আয়-ব্যয় নীতির সমন্বয়েগড়ে ওঠে। সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতির মাধ্যমে ভোগ ব্যয় ও বিনিয়োগ হ্রাস করে এবং নিজস্ব ব্যয় কমিয়ে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।।২. সামগ্রিক জোগান বৃদ্ধি: সামগ্রিক চাহিদা সহজে পূরণের জন্য দ্রব্য ও সেবার উৎপাদন বৃদ্ধি করলে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে পূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয়। শুধু অপূর্ণ নিয়োগ অবস্থায় এটি সম্ভবপর।৩. আমদানি বৃদ্ধিকরণ: বিদেশ থেকে দ্রব্যসামগ্রী আমদানির মাধ্যমে চাহিদার উপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস করতে পারলে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পায়। উল্লেখ্য, এটি একটি স্বল্পকালীন ব্যবস্থা।৪. বাধ্যতামূলক সঞ্চয়: জনগণকে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ে বাধ্য করতে পারলে হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অর্থের প্রচলনগতিও হ্রাস পায়। তাহলে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।৫. ফটকা কারবার রোধ: ফটকা কারবার মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তোলে। এ কারণে এ ধরনের কারবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ইতিবাচক। তবে এগুলোর সাথে উপর্যুক্ত নীতিগুলো প্রয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও কমবে এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।