উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, সরকারি ব্যয় ও ভোগ বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা (AD) বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দাম স্তর ১৩১ থেকে বেড়ে ১৬২ হয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশ করছে। এই মুদ্রাস্ফীতিজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার রাজস্বনীতিতে সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করতে পারে। এই নীতির প্রধান পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ-
১. সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার অনুন্নয়নমূলক বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমিয়ে দিলে বাজারে অর্থের সরবরাহ ও মোট চাহিদা (AD) কমে আসে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করে।
২. করের পরিমাণ বৃদ্ধি: সরকার আয়কর, কর্পোরেট কর বা ভ্যাট (VAT) এর মতো করের হার বাড়িয়ে দিলে জনগণ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়যোগ্য আয় কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং পণ্যের দামের ওপর চাপ কমে আসে।
৩. সরকারি ঋণ গ্রহণ: সরকার বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড বা সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এতে জনগণের হাতে থাকা বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা সরকারের কাছে চলে আসে, যা বাজারে অর্থের সরবরাহ কমিয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. সঞ্চয় বৃদ্ধি: সঞ্চয়ের বিপরীতে সুদের হার বৃদ্ধি করে অথবা আকর্ষণীয় সঞ্চয় প্রকল্প চালু করে সরকার জনগণের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে পারে। এতে জনগণের ভোগ ব্যয় কমে আসে এবং সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে।
এ পদক্ষেপগুলো সমন্বিতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার অর্থনীতি থেকে অতিরিক্ত অর্থ শোষণ করে মুদ্রাস্ফীতিজনিত ব্যবধান দূর করতে পারে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।