উদ্দীপকে সৃষ্ট চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ (ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানো) সংকোচনমূলক নীতি হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।১. ব্যাংক হার বৃদ্ধির ভূমিকা: সরকার যখন ব্যাংক হার বাড়ায়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসায়বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত ঋণের চাহিদা কমে যায়, ফলে বাজারে অর্থের সরবরাহ সংকুচিত হয়। এটি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে সামগ্রিক চাহিদা (AD) কমিয়ে আনে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করে।২. সরকারি ব্যয় হ্রাসের ভূমিকা: সরকারি ব্যয় হ্রাস হলো সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার যদি তার অপ্রয়োজনীয় বা অনুন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় কমিয়ে দেয়, তাহলে বাজারে অর্থের সরবরাহ সরাসরি কমে আসে। সরকারি ব্যয় হ্রাসের ফলে মোট চাহিদা (AD) সংকুচিত হয়, কারণ সরকার কর্তৃক পণ্য ও সেবার চাহিদা কমে যায়। এটি অতিরিক্ত চাহিদার চাপ কমিয়ে দামস্তরের বৃদ্ধিকে রোধ করে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় হ্রাস-এই দুটি পদক্ষেপই একত্রে কাজ করে অর্থনীতি থেকে অতিরিক্ত অর্থ শোষণ করে নিতে পারে। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা কমে আসে এবং মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।