দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সরকার ব্যাংক হার বৃদ্ধি, অর্থের যোগান হ্রাস, সরকারি ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরোক্ষ করের হার কমানো ইত্যাদি পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কতটুকু ভূমিকা রাখবে উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ব্যাংক হার পরিবর্তন: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ব্যাংকগুলোর ঋণপত্রের খরচ বেশি পড়ে বিধায় বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম ঋণ গ্রহণ করে। ফলে তাদের ঋণ প্রদান ক্ষমতা সংকোচিত হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বেসরকারি ভোগ ও বিনিয়োগপ্রবণতা হ্রাসহেতু সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, মূল্যস্তর হ্রাস পায়।
২. অর্থের যোগান হ্রাস: অর্থের যোগানের সাথে দ্রব্যসামগ্রীর দামের সম্পর্ক সমমুখী। অর্থের পরিমাণ তত্ত্বের ফিশারের সমীকরণে বিষয়টি স্পষ্ট। তাই অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দামস্তর কমে যাবে ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হবে।
৩. সরকারি ব্যয় হ্রাস: বাজেট ঘাটতি মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম কারণ। ফলে বর্তমান সময়ে ঘাটতি ব্যয় কমানো ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যয় মেটানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
৪. উৎপাদন বৃদ্ধি: উৎপাদন বৃদ্ধি করে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা সম্ভব। এজন্য কৃষি ও শিল্পের আধুনিকায়ন এবং অতি আবশ্যক দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে যাবে।
৫. পরোক্ষ করের হার কমানো : পরোক্ষ কর মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে পরোক্ষ করের হার কমলে দ্রব্যমূল্য হ্রাস পাবে ফলে মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমে যাবে।
সুতরাং দেখা যায়, সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।