মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেমন আর্থিক নীতি গ্রহণ করে, তেমনি সরকার রাজস্ব নীতি প্রয়োগ করে থাকে।মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করে সেগুলোর সমষ্টিই হলো আর্থিক নীতি। এ নীতির অধীনে ব্যাংক হার বৃদ্ধি, নগদ জমার অনুপাত বৃদ্ধি, খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বিক্রয় ইত্যাদি। অন্যদিকে, রাজস্ব নীতির মধ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাস, করের পরিমাণ বৃদ্ধি, সরকারি ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।উদ্দীপকে থেকে দেখা যায়, ভিত্তি বছরের চাল, লবণ ও আলুর দাম ভিত্তি এর তুলনায় বর্তমান বছরে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হ্রাস ও প্রগতিশীল হারে কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি সরকারের রাজস্ব নীতির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক হার পরিবর্তন, খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রয় ইত্যাদি ব্যবস্থার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতির অন্তর্ভুক্ত।সরকার ব্যাংক হার বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ব্যয়সাধ্য হলেও ঋণের পরিমাণ কমায় মুদ্রাস্ফীতি কমে যায়। সরকারি ব্যয়ের হ্রাস ঘটলে আর্থিক প্রবাহ কমে ও সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। ফলে দামস্তর কমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া প্রগতিশীল হারে আয়কর, সম্পদ কর ইত্যাদি আরোপ এবং খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রয় করলে জনগণের হাতে অর্থের যোগান কমে। এতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং, সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে