উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি আমদানি বিকল্প শিল্প। এ শিল্পের সমস্যাসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক এ নীতির যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
১. মূলধন নিবিড় কৌশল: আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন ব্যবস্থায় মূলধন নিবিড় কৌশল ব্যবহৃত হয়। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেকার সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। এমতাবস্থায় দেশে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল গ্রহণ করা হলে বেকার সমস্যার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
২. নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি: এ কৌশল অনুসরণ করা হলে ভোগ্যপণ্যের আমদানি হ্রাস পায়। কিন্তু শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও মূলধনসামগ্রীর আমদানি বৃদ্ধি পায়। তাই আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল আমদানি নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে।
৩. নিম্নমানের পণ্য: আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশলের অন্যতম অসুবিধা হলো নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন। এ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পকারখানা সরকারের পরোক্ষ সহযোগিতায় অব্যাহতভাবে সংরক্ষণ সুবিধা ভোগ করে। তাছাড়া এরূপ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বাজারও খুব সংকীর্ণ। এমতাবস্থায় পণ্যের মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না বলে নিম্নমানের পণ্য উৎপাদিত হয়।
উপরে আলোচিত সমস্যাগুলোসহ আরও নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমদানি বিকল্প শিল্পের মাধ্যমে শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের আমদানি কমে যায়, বেকারত্ব কমে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। মোটকথা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়।