উদ্দীপকে উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর শিল্প কৌশল হলো আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল।
বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় সেসব পণ্য নিজের দেশে উৎপাদন করতে শিল্পকারখানা স্থাপন করাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে। সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দ্রব্যের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করার নীতিকে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল বলে। অন্যভাবে বলা যায়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় সেসব পণ্য আমদানি না করে নিজ দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করাকে আমদানি বিকল্প শিল্পয়ন কৌশল বলা হয়। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা করে এ ধরনের শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যেসব দ্রব্য আমদানি করা হয় সেসব দ্রব্য আমদানি না করে দেশীয় প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করে দেশেই উৎপাদন করা যায়, পণ্যের আমদানি হ্রাস পায় এবং দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটে। এভাবেই আমদানি বিকল্প শিল্প একটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বাংলাদেশের ওয়াল্টন, ভিশন, মাইওয়ান, মিনিস্টার প্রভৃতি কোম্পানি বর্তমানে দেশেই ভালোমানের টিভি, ফ্রিজ, এয়ারকুলার ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন করছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমদানি না করে দেশেই উৎপাদন করছে এসব কোম্পানি। এতে পূর্বের তুলনায় আমদানি ব্যয় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। তাই এরূপ শিল্পকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলা যায়।