সম্প্রতি উন্নতজাতের পাট ও পাটজাত দ্রব্যের উদ্ভাবন, পাটের বিকল্প পণ্য ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ফলে নতুন করে পাট শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
পাটের বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় পাট শিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার নতুন করে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ পাট ও পাটজাত দ্রব্য পরিবেশবান্ধব। তাছাড়া বর্তমান সরকার ১৭টি পণ্যের মোড়কে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। অন্যদিকে, পলিথিন, নাইলন ও প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে। ফলে উন্নত জাতের পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যাপক মাত্রায় উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এতে মুনাফা লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে এখন অনেক কৃষক পাট চাষে উৎসাহী হচ্ছে। তাছাড়া ২০০২ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে এবং পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে সারাদেশে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বেড়ে যায়। আবার, সাম্প্রতিক সময়ে পাট দ্বারা বিভিন্ন উন্নত ও রুচিশীল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন- পাটের তৈরি ব্যাগ, জুতা, মাদুর ইত্যাদি ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া এ সকল পণ্য পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সম্প্রতি পাট শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে।