বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাবলি সমাধানের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এদেশের তৈরি পোশাকের আইটেম সংখ্যা কম ও পণ্যের গুণগত মান স্থির নয়। তাই আমার প্রথম সুপারিশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাজার দখল করতে পণ্যের আইটেম সংখ্যা বৃদ্ধি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে শ্রমের পর্যাপ্ত যোগান থাকলেও এসব শ্রমিক অদক্ষ ও প্রায়ই কারিগরি জ্ঞানশূন্য । এসব অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিক উৎপাদনশীল শ্রমিক তৈরি করা আবশ্যক। একই সাথে এসব শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশ করব। কেননা এতে শ্রমিকের কর্মনৈপুণ্য বৃদ্ধি পায়। শ্রমিকের কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও উন্নত করা এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন করতে হবে। পোশাক শিল্পের সমস্যাসমূহ দূরীকরণে অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে সাথে শিল্পের কারিগরি উন্নতির প্রয়োজন। এজন্য শিল্পে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বস্ত্র শিল্প প্রায় সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। তাই দেশীয় বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নসহ অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। পোশাক শিল্পের বড় সমস্যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লোডশেডিং, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আমার সুপারিশ হচ্ছে পোশাক শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ প্রভৃতির সরবরাহ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা হরতাল- ধর্মঘট প্রভৃতির বাইরে পোশাক শিল্পকে রাখতে মতৈক্য গ্রহণ করতে হবে। পোশাক শিল্পে পর্যাপ্ত ঋণের সুবিধা ও করমুক্ত বাণিজ্য সীমা প্রসার করতে হবে। রপ্তানিকে উৎসাহিত করে ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের সুবিধা প্রদান করতে হবে, যা এ শিল্পকে দ্রুত প্রসারিত করবে। এছাড়াও এ খাতের সমস্যা সমাধানে ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করব, যা শিল্পটিতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান পর্যাপ্ত হবে।