উদ্দীপক অনুযায়ী বাংলাদেশে পাট শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ চিহ্নিত করা হলো-
১. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি : বাংলাদেশে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে উৎপাদন খরচ পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মূল্য তেমন বৃদ্ধি পায়নি । এর ফলে পাটচাষিদের হতাশাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. উৎপাদন ও বণ্টন সমস্যা : পাটচাষিদের পাট বিপণন ও মূল্য
৩. নির্ধারণের ক্ষেত্রে নানা রকম জটিলতা এবং সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া তাদের একদিকে আর্থিক সমস্যা এবং অন্যদিকে সংরক্ষণের সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে পাট উৎপাদনকারী কৃষকের এক বৃহৎ অংশ উৎপাদনের পরপরই কম মূল্যে পাট বিক্রয় করতে বাধ্য হয়।
পাটের মূল্য সমস্যা : পাটের গুণগত মান, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদার উত্থান-পতন এবং উৎপাদন ও এর বণ্টনের অনিশ্চয়তার জন্য পাটের মূল্যে অত্যধিক উত্থান- পতন লক্ষ করা যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য চালের (ভাত) ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির ফলে পাটচাষিরা পাট উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা : বাংলাদেশের পাটকলসমূহের ব্যবস্থাপনা প্রায় অদক্ষ ও দুর্নীতিপরায়ণ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়নে যন্ত্রাংশের অভাব, বিদ্যুৎ সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি ।
৫. মূলধন ও উদ্যোক্তার অভাব : পরিবেশবান্ধব হিসেবে পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃহদায়তন শিল্প হিসেবে পাট শিল্পে ঝুঁকি গ্রহণ করে শিল্পোৎপাদনে পর্যাপ্ত মূলধন যোগান দেওয়ার মতো উদ্যোক্তার অভাব রয়েছে।
৬. পণ্য বহুমুখীকরণ : নাইলন ও প্লাস্টিক সামগ্রীর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু পাট পরিবেশবান্ধব হলেও পাট ও পাটজাত পণ্য বহুমুখীকরণে (Diversification) সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যথেষ্ট উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
৭. মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি : এ দেশের পাটের প্রাথমিক, মধ্যবর্তী এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের বাজারগুলোতে বেপারি, ফড়িয়া, দালাল, আড়তদার, রপ্তানিকারক ইত্যাদি ধরনের বহুসংখ্যক মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রয়েছে। এগুলোই মূলত বাংলাদেশে পাট শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।